বিদেশে উচ্চশিক্ষা

এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা: স্কলারশিপ ও আবেদনের পূর্ণ গাইড

এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা করতে চান? ব্যাচেলর স্কলারশিপ (MEXT, GKS, তুরস্ক, চীন), IELTS ছাড়া সুযোগ, কাগজপত্র, সময়সূচি ও প্রতারণা এড়ানোর উপায় এক গাইডে।

ডিযিনি ট্রাভেল সম্পাদকীয় টিমভিসা ও ট্রাভেল এক্সপার্ট টিম১১ মিনিটে পড়ুন
এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা: স্কলারশিপ ও আবেদনের পূর্ণ গাইড

এই আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তু

  • স্বচ্ছ, কাগজপত্রভিত্তিক ও হালনাগাদ নিয়মের পরামর্শ
  • প্রাথমিক ফাইল মূল্যায়নে কোনো অগ্রিম ফি নেই
  • ঢাকা প্রধান কার্যালয় ও শরীয়তপুর শাখায় সরাসরি সেবা
  • দেশের ৬৪ জেলা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলে অনলাইন সেবা

১. এইচএসসির পর কি সরাসরি বিদেশে পড়াশোনা করা যায়? সংক্ষিপ্ত উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, যায়। এইচএসসি (বা এ-লেভেল) সনদ দিয়ে বেশিরভাগ দেশে ব্যাচেলর (স্নাতক) প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়, এবং কয়েকটি দেশের সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ দেয় — জাপানের MEXT, কোরিয়ার GKS, তুরস্কের Türkiye Bursları এবং চীনের Chinese Government Scholarship (CSC) সবচেয়ে পরিচিত। এগুলোতে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি, তাই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী স্কলারশিপের পাশাপাশি একটি বিকল্প পরিকল্পনা রাখেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের আংশিক স্কলারশিপ অথবা কম খরচের কোনো দেশ।

এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো সময়। অনেক স্কলারশিপের আবেদন শুরু ও শেষ হয় এমন সময়ে, যখন সাধারণত শিক্ষার্থীরা ভর্তির কথা ভাবতেই শুরু করেন না। তাই ফল প্রকাশের পর নয়, এইচএসসি পরীক্ষার বছর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত।

এই গাইডে যোগ্যতা, প্রধান আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ, IELTS ছাড়া সুযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে নিয়ম, কোটা ও তারিখ বদলায়, তাই এখানকার তথ্য লেখার সময় (২০২৬ সালের শেষভাগ) অনুযায়ী — আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন।

২. এইচএসসির পর স্কলারশিপের যোগ্যতা: রেজাল্ট, বয়স ও ভাষা

বেশিরভাগ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপে চারটি বিষয় দেখা হয়: একাডেমিক ফলাফল (এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ, কখনো কখনো বিষয়ভিত্তিক নম্বর), বয়স, ভাষাগত দক্ষতা এবং আবেদনের মান (স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রম)। সরকারি স্কলারশিপে সাধারণত ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা হয় — প্রায়ই এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই উচ্চ জিপিএ — তবে প্রতিটি প্রোগ্রাম নিজস্ব ন্যূনতম শর্ত প্রকাশ করে, তাই শোনা কথার বদলে অফিসিয়াল গাইডলাইন পড়ুন।

বয়সসীমা অনেক শিক্ষার্থী যতটা ভাবেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লেখার সময় পর্যন্ত Türkiye Bursları আন্ডারগ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর বয়স ২১ বছরের কম হওয়ার শর্ত দিয়েছে, আর GKS আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২৫ বছরের কম। আপনার যদি গ্যাপ ইয়ার থাকে, তাহলে আগে বয়সের শর্তটি দেখে নিন।

ভাষা: কিছু স্কলারশিপে ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর লাগে, আবার কিছু (জাপান, কোরিয়া, চীন) প্রোগ্রামে স্থানীয় ভাষা শেখার ব্যবস্থা থাকে বা প্রত্যাশা করা হয়। প্রায় সব আবেদনেই বৈধ পাসপোর্ট লাগে — পাসপোর্ট না থাকলে যত দ্রুত সম্ভব ই-পাসপোর্টের আবেদন করুন।

৩. বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত যেসব সম্পূর্ণ অর্থায়িত (fully funded) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপে আবেদন করেন, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো। সাধারণত টিউশন ফি ও মাসিক ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকে, কখনো বিমান ভাড়াও — সঠিক সুবিধা জানতে চলতি বছরের গাইডলাইন দেখুন।

  • জাপান – MEXT (মনবুকাগাকুশো): দূতাবাস সুপারিশ (Embassy recommendation) পদ্ধতিতে বাংলাদেশি আবেদনকারীরা বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন, যা ঢাকার জাপান দূতাবাস ঘোষণা করে। বাছাইকৃতদের লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার দিতে হয়। ২০২৭ সালের আবেদন শেষ হয়ে গেছে; পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আসতে পারে — দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের নোটিশে নজর রাখুন।
  • দক্ষিণ কোরিয়া – GKS-U: ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের ২০২৭ সালের বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের জন্য দূতাবাস ট্র্যাকে ৩টি আসন ছিল এবং আবেদন হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এর বাইরে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাক আছে, যেখানে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়।
  • তুরস্ক – Türkiye Bursları: অফিসিয়াল Türkiye Scholarships পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হয়, সাধারণত বছরের শুরুর দিকে। প্রায় সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারেন।
  • চীন – Chinese Government Scholarship (CSC): Campus China (CSC) অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করতে হয় — চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে (Type A) অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে (Type B)। চীনা মিশনগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের China Scholastic Competency Assessment (CSCA) পরীক্ষা দিতে হবে।

দেশগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের জাপানে উচ্চশিক্ষা গাইড, দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা এবং চীনে উচ্চশিক্ষা পেজ।

৪. IELTS ছাড়া এইচএসসির পর বিদেশে স্কলারশিপ ও ভর্তি

অনেকেই খোঁজেন “IELTS ছাড়া এইচএসসির পর স্কলারশিপ”। সৎ উত্তর হলো: সম্ভব, তবে সুযোগ তুলনামূলক কম। জাপান, কোরিয়া, চীন ও তুরস্কের মতো অ-ইংরেজিভাষী দেশের কিছু সরকারি স্কলারশিপে স্থানীয় ভাষায় পড়ানো হয় এবং প্রায়ই এক বছরের ভাষা প্রস্তুতি কোর্স থাকে, তাই সেখানে IELTS সবসময় মূল বিষয় নয়। তবে তাদের নিজস্ব বাছাই পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে ভালো ইংরেজি অথবা নতুন ভাষা শেখার আগ্রহ দেখাতে হয়।

মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Duolingo English Test, নিজস্ব অনলাইন ইংরেজি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, আবার কেউ কেউ ইংরেজি মাধ্যমের এইচএসসি/এ-লেভেলের ফলাফল বিবেচনা করে। তবে ভিসার সময় দূতাবাস আলাদাভাবে ভাষার প্রমাণ চাইতে পারে। তাই IELTS বাদ দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও দূতাবাস — দুই জায়গার শর্তই নিশ্চিত হয়ে নিন।

তবু ভালো IELTS বা সমমানের স্কোর থাকলে সুযোগ অনেক বেড়ে যায় — বিশেষ করে মেধাভিত্তিক টিউশন ফি মওকুফের ক্ষেত্রে। এইচএসসির পর কয়েক মাস সময় থাকলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সেই সময় কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। কোন দেশ আপনার জন্য উপযুক্ত তা বুঝতে পড়ুন স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোন দেশ ভালো।

৫. আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ আবেদনের কাগজপত্রের চেকলিস্ট

এগুলো আগেভাগেই প্রস্তুত করুন — সত্যায়িত সনদ ও সুপারিশপত্র জোগাড় করতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যতটা ভাবেন তার চেয়ে বেশি সময় লাগে:

  • বৈধ পাসপোর্ট (প্রোগ্রাম যতদিনের মেয়াদ চায়)
  • এসএসসি ও এইচএসসির সনদ ও নম্বরপত্র/ট্রান্সক্রিপ্ট (ইংরেজি কপি; প্রয়োজনে সত্যায়িত)
  • কলেজ থেকে প্রশংসাপত্র বা চারিত্রিক সনদ
  • নিজের লেখা স্টেটমেন্ট অব পারপাস / স্টাডি প্ল্যান
  • শিক্ষক বা অধ্যক্ষের কাছ থেকে এক-দুটি সুপারিশপত্র
  • প্রয়োজনে ইংরেজি (বা অন্য ভাষার) পরীক্ষার স্কোর
  • যেখানে চাওয়া হয়, প্রোগ্রামের নিজস্ব ফরমে মেডিকেল সার্টিফিকেট
  • নির্ধারিত মাপের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • পুরস্কার, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবা — উদ্যোগের প্রমাণ দেয় এমন সনদ

প্রতিটি স্কলারশিপের দেওয়া নির্দিষ্ট ফরমই ব্যবহার করুন। পুরোনো ফরম বা স্বাক্ষরবিহীন সুপারিশপত্র জমা দেওয়া প্রথম বাছাইয়ে ভালো আবেদনকারীদের বাদ পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি। পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র ও খরচের তালিকা জানতে পড়ুন বিদেশে পড়াশোনা করতে কি কি লাগে।

৬. এইচএসসির বছর থেকে বিদেশযাত্রা পর্যন্ত একটি বাস্তব সময়সূচি

  • এইচএসসির বছরে: ২–৩টি দেশ বাছাই করুন, পাসপোর্ট করে ফেলুন, দূতাবাস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কলারশিপ বিজ্ঞপ্তিতে নজর রাখুন।
  • পরীক্ষার পরপরই: ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন (এবং/অথবা জাপানি, কোরিয়ান বা চীনা ভাষার প্রাথমিক পাঠ শুরু করুন), স্টেটমেন্ট অব পারপাসের খসড়া লিখুন, সুপারিশপত্রের অনুরোধ করুন।
  • ফল প্রকাশের পর: ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ সংগ্রহ করুন, যে স্কলারশিপের আবেদন চলছে সেগুলোতে এবং পরবর্তী ইনটেকের জন্য বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করুন।
  • নির্বাচিত হওয়ার পর: ভর্তির কাগজপত্র, ভিসা আবেদন, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমান টিকিট।

MEXT, GKS, Türkiye Bursları ও CSC — প্রতিটির সময়সূচি আলাদা, তাই একটি সুযোগ মিস করলে প্রায়ই পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের সাধারণ আবেদন শুরুর মাস দিয়ে একটি সহজ ক্যালেন্ডার বানান এবং কয়েক সপ্তাহ পরপর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।

মনে রাখবেন, আবেদন থেকে বিদেশে পৌঁছানো পর্যন্ত একটি স্কলারশিপ চক্রে সাধারণত ৮–১২ মাস লাগে। দেরিতে শুরু করলে দুর্ভাগ্য নয়, বরং সুযোগই কমে যায়। জাপানে যেতে চাইলে বিস্তারিত পড়ুন জাপান স্টুডেন্ট ভিসা গাইড।

৭. যেসব ভুল ও স্কলারশিপ প্রতারণা এড়িয়ে চলবেন

প্রকৃত সরকারি স্কলারশিপে আসন “নিশ্চিত” করার জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না, এবং কোনো এজেন্ট আপনাকে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের নিশ্চয়তা দিতে পারে না — নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয়। অগ্রিম টাকার বিনিময়ে “১০০% স্কলারশিপ” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে, অথবা আবেদন না করেও কেউ আপনাকে স্কলারশিপের চিঠি পাঠালে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।

অন্যান্য সাধারণ ভুল: ইন্টারনেট থেকে কপি করা স্টেটমেন্ট অব পারপাস জমা দেওয়া, বয়সসীমা খেয়াল না করা, অস্পষ্ট স্ক্যান আপলোড করা এবং মাত্র একটি প্রোগ্রামে আবেদন করা। কোনো টাকা দেওয়ার আগে ভর্তি বা স্কলারশিপের চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ইমেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি যাচাই করুন।

প্রতিটি আবেদন ও রশিদের কপি সংরক্ষণ করুন। কোনো কিছু অতিরিক্ত তাড়াহুড়া বা গোপনীয় মনে হলে থামুন এবং যাচাই করুন — প্রকৃত সুযোগ আগামীকালও থাকবে।

৮. দেশের যেকোনো জেলা থেকে ডিযিনি কীভাবে সাহায্য করে

আমাদের স্টাডি অ্যাব্রোড টিম এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, কাগজপত্র ও স্টেটমেন্ট অব পারপাস প্রস্তুত, স্কলারশিপের সময়সূচি অনুসরণ এবং ভর্তির পর ভিসা আবেদন ও বিমান টিকিটে সহায়তা করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী বা যেকোনো জেলা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলে ঘরে বসেই কাজ করা যায়, অথবা কাকরাইলে আমাদের ঢাকা প্রধান কার্যালয় বা শরীয়তপুর শাখায় আসতে পারেন।

আমরা স্কলারশিপের নিশ্চয়তা দিতে পারি না — কোনো সৎ পরামর্শকই পারেন না — তবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুপ্রস্তুত আবেদন জমা দিতে সাহায্য করতে পারি। দেখুন আমাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সেবা, অথবা প্রথম ফ্রি পরামর্শের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার জন্য কোন দেশ ভালো?

একক কোনো সেরা দেশ নেই। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও তুরস্ক সরকারি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ দেয়, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ তুলনামূলক সাশ্রয়ী, আর যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় খরচ বেশি হলেও বিষয়ের সুযোগ অনেক। নিজের ফলাফল, বাজেট, ভাষাগত দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেখে দেশ বাছাই করুন এবং অন্তত একটি বিকল্প রাখুন।

IELTS ছাড়া কি এইচএসসির পর স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

কিছু ক্ষেত্রে যায়। জাপান, কোরিয়া, চীন ও তুরস্কের সরকারি স্কলারশিপে প্রায়ই স্থানীয় ভাষায় পড়ানো হয় এবং ভাষা প্রস্তুতির বছর থাকে, আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Duolingo বা নিজস্ব ইংরেজি পরীক্ষা গ্রহণ করে। তবে ভিসার সময় ভাষার প্রমাণ লাগতে পারে এবং ভালো ইংরেজি স্কোর সুযোগ অনেক বাড়ায়, তাই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শর্ত নিশ্চিত হয়ে নিন।

ফুল-ফ্রি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপের জন্য কত জিপিএ লাগে?

প্রতিটি প্রোগ্রাম নিজস্ব ন্যূনতম শর্ত নির্ধারণ করে এবং সরকারি স্কলারশিপে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, তাই এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। শুধু ফলাফলই যথেষ্ট নয়: লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও সুপারিশপত্রও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক একাডেমিক শর্ত জানতে চলতি বছরের অফিসিয়াল গাইডলাইন দেখুন।

এইচএসসির পর MEXT বা GKS-এ কখন আবেদন করতে হয়?

দুটি স্কলারশিপই বছরে একবার নির্দিষ্ট সময়সূচিতে চলে। লেখার সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ সালের MEXT আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং GKS দূতাবাস ট্র্যাকের (আবেদন হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে) আবেদন শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে জাপান দূতাবাস, ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ নিয়মিত দেখুন।

সরকারি স্কলারশিপ পেতে কি কোনো এজেন্সিকে টাকা দিতে হয়?

না। সরকারি স্কলারশিপ দেয় সংশ্লিষ্ট সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয়, এবং অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সাধারণত বিনামূল্যে। পরামর্শক কাগজপত্র ও পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য ফি নিতে পারেন, কিন্তু কেউ স্কলারশিপ বিক্রি বা নিশ্চিত করতে পারেন না। স্কলারশিপের আসন “কনফার্ম” করার নামে টাকা চাইলে সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণা ধরে নিন এবং অফিসিয়াল উৎসে যাচাই করুন।

ট্যাগ:#এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা#আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ#Study Abroad After HSC#Scholarship for Bangladeshi Students#IELTS ছাড়া স্কলারশিপ#Undergraduate Scholarship Bangladesh
ফ্রি ফাইল যাচাই

আপনার ফাইল পাঠান

আমাদের কনসালট্যান্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে সঠিক আপডেট জানাবেন।

সরাসরি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

ফর্মটি পূরণ করুন, আমাদের অভিজ্ঞ টিম দ্রুততম সময়ে যোগাযোগ করবে।

সকল ব্লগে ফিরে যান

সম্পর্কিত অন্যান্য ব্লগ

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোন দেশ ভালো? বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৬ গাইড
বিদেশে উচ্চশিক্ষা

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোন দেশ ভালো? বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৬ গাইড

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোন দেশ ভালো? খরচ, IELTS, পার্ট-টাইম কাজ ও পড়াশোনার পর সুযোগ মিলিয়ে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইতালি, জাপানসহ দেশগুলোর তুলনা।

১১ মিনিটে পড়ুন
স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে কত টাকা লাগে? যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া
বিদেশে উচ্চশিক্ষা

স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে কত টাকা লাগে? যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া

স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে কত টাকা লাগে, জাপান যাওয়ার যোগ্যতা, JLPT/NAT, সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (CoE) এবং ঢাকার VFS-এ আবেদনের ধাপ — বিস্তারিত গাইড।

১০ মিনিটে পড়ুন
স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উপায়: খরচ, যোগ্যতা ও ফি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা

স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উপায়: খরচ, যোগ্যতা ও ফি

স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উপায়: সাবক্লাস ৫০০ এর যোগ্যতা, AUD 2,500 ফি, AUD 29,710 আর্থিক শর্ত, জেনুইন স্টুডেন্ট প্রশ্ন ও ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া।

১১ মিনিটে পড়ুন

আমাদের পার্টনার

যাদের সাথে আমরা একসাথে কাজ করি

দেশের বিশ্বস্ত ট্রাভেল, রিক্রুটিং ও এডুকেশন কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে আমরা আপনার সেবা নিশ্চিত করি।

কল করুনWhatsApp