ওয়ার্ক পারমিট

ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে প্রসেসিং ও যাচাই গাইড

ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, সার্বিয়া, ইতালি ও পর্তুগালে যাওয়ার প্রসেসিং, কাগজপত্র, খরচ এবং চাকরির অফার যাচাইয়ের উপায়।

ডিযিনি ট্রাভেল সম্পাদকীয় টিমভিসা ও ট্রাভেল এক্সপার্ট টিম১২ মিনিটে পড়ুন
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে প্রসেসিং ও যাচাই গাইড

এই আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তু

  • স্বচ্ছ, কাগজপত্রভিত্তিক ও হালনাগাদ নিয়মের পরামর্শ
  • প্রাথমিক ফাইল মূল্যায়নে কোনো অগ্রিম ফি নেই
  • ঢাকা প্রধান কার্যালয় ও শরীয়তপুর শাখায় সরাসরি সেবা
  • দেশের ৬৪ জেলা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলে অনলাইন সেবা

১. ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কীভাবে কাজ করে? সংক্ষিপ্ত উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর: একক কোনো “ইউরোপ ওয়ার্ক ভিসা” নেই; প্রতিটি দেশ নিজস্ব ভিসা দেয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রায় সবসময় দুই ধাপের প্রক্রিয়া: (১) সেই দেশের একজন প্রকৃত নিয়োগকর্তা সেখানকার ইমিগ্রেশন বা শ্রম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার জন্য ওয়ার্ক পারমিট বা অনুমোদন নেন, এবং (২) আপনি সেই দেশের দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল (D-টাইপ) ভিসার আবেদন করেন। পৌঁছানোর পর রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হয়।

বাংলাদেশি কর্মীরা সাধারণত যেসব দেশে যান: রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, সার্বিয়া, ইতালি (ডিক্রেতো ফ্লুসি কোটা ব্যবস্থায়) এবং এখন তুলনামূলক কম পর্তুগাল। নিয়ম, কোটা ও কোথায় আবেদন করতে হবে তা প্রায়ই বদলায় — ভিসার অপব্যবহারের ঘটনার পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কয়েকটি দেশ যাচাই কঠোর করেছে।

এই গাইডে প্রতিটি পথ কীভাবে কাজ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচের খাত, বাস্তব সময়সীমা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — টাকা দেওয়ার আগে ইউরোপের চাকরির অফার কীভাবে যাচাই করবেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সব তথ্য লেখার সময় (২০২৬ সালের শেষভাগ) অনুযায়ী; অফিসিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটে নিশ্চিত হয়ে নিন।

২. রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও সার্বিয়ার ওয়ার্ক পারমিট

  • রোমানিয়া: নিয়োগকর্তা জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (IGI) থেকে ওয়ার্ক অথরাইজেশন নেন; এরপর আপনি দীর্ঘমেয়াদি এমপ্লয়মেন্ট ভিসার আবেদন করেন। ঢাকায় রোমানিয়ার পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস নেই; বাংলাদেশি আবেদনকারীরা মূলত নয়াদিল্লির রোমানিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন, কখনো ঢাকায় অস্থায়ী কনস্যুলার ব্যবস্থাও ছিল — বর্তমান স্থান রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখুন। দেখুন আমাদের রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিট পেজ।
  • ক্রোয়েশিয়া: নিয়োগকর্তা ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ/স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থায় থাকা ও কাজের পারমিট নেন; লেখার সময় বাংলাদেশের জন্য VFS Global-এর চেকলিস্টে ঢাকায় জমা দেওয়ার ভিসা সেন্টারের উল্লেখ আছে, আর সিদ্ধান্ত দেয় নয়াদিল্লির ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাস, যারা সাক্ষাৎকারে ডাকতে পারে। কিছু নিয়োগকর্তা ও এজেন্সির অপব্যবহারের পর ২০২৫ সালে ক্রোয়েশিয়া নিয়ম কঠোর করেছে। দেখুন ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট।
  • পোল্যান্ড: নিয়োগকর্তা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ (ভয়েভোড) থেকে ওয়ার্ক পারমিট নেন, এরপর আপনি কাজের জন্য ন্যাশনাল D ভিসার আবেদন করেন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য পোল্যান্ডের ভিসা প্রতিনিধিত্বে পরিবর্তন এসেছে, তাই gov.pl-এ বর্তমান স্থান নিশ্চিত করুন। দেখুন পোল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট।
  • সার্বিয়া: ওয়ার্ক পারমিট ও D-টাইপ ভিসা; বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সাধারণত নয়াদিল্লির সার্বিয়ান দূতাবাসের আওতায়।

যেখানে দূতাবাস নয়াদিল্লিতে, সেখানে সাক্ষাৎকারে যেতে সাধারণত ভারতীয় ভিসা লাগে — পরিকল্পনার আগে আপনার উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসা পাওয়া যাচ্ছে কিনা দেখে নিন। ভিজিট ভিসায় এক দেশে ঢুকে অন্য দেশে গিয়ে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা কখনোই গ্রহণ করবেন না।

৩. ইতালির ডিক্রেতো ফ্লুসি ও পর্তুগাল: কী বদলেছে

ইতালি: ইইউর বাইরের কর্মীরা মূলত ডিক্রেতো ফ্লুসি নামের কোটা ব্যবস্থায় ইতালিতে যান। ২০২৬–২০২৮ সালের ডিক্রিতে তিন বছরে মোট প্রায় ৪,৯৭,৫৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মৌসুমি ও অ-মৌসুমি কাজে ভাগ করা, এবং ইতালির সাথে অভিবাসন চুক্তি আছে এমন দেশগুলোর জন্য আলাদা অংশ সংরক্ষিত — বাংলাদেশ এই দেশগুলোর একটি। ইতালির নিয়োগকর্তা নির্দিষ্ট “ক্লিক ডে”-তে অনলাইনে নুল্লা ওস্তা (কাজের অনুমোদন)-র আবেদন করেন; এটি ইস্যু হওয়ার পরই আপনি ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করেন, যা বাংলাদেশি আবেদনকারীরা ঢাকার ইতালিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে জমা দেন। কোটা দ্রুত পূরণ হয় এবং ভুয়া আবেদনের বিরুদ্ধে ইতালি যাচাই জোরদার করেছে, তাই নুল্লা ওস্তা অবশ্যই প্রকৃত ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। বিস্তারিত দেখুন আমাদের ইতালি ওয়ার্ক পারমিট পেজে এবং পড়ুন ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি ওয়ার্ক পারমিট গাইড।

পর্তুগাল: ঢাকায় পর্তুগালের দূতাবাস নেই (বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সাধারণত নয়াদিল্লির আওতায়), এবং দেশটি নিয়ম কঠোর করেছে: প্রবেশের পর বৈধ হওয়ার “ম্যানিফেস্টেশন অব ইন্টারেস্ট” পথ ২০২৪ সালে বাতিল হয়েছে, আর ২০২৫ সালের শেষ দিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাধারণ জব-সিকার ভিসার বদলে দক্ষ কর্মীদের জন্য সীমিত একটি ভিসা চালু হয়েছে। কেউ “পর্তুগাল জব-সিকার ভিসা” প্যাকেজ বিক্রি করলে ভালোভাবে প্রশ্ন করুন — আগে AIMA ও পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখুন।

৪. ইউরোপ ভিসা প্রসেসিং: ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

  • ১. চাকরির অফার ও চুক্তিপত্র — শনাক্তযোগ্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে, যেখানে বেতন, কর্মঘণ্টা, থাকা ও মেয়াদ উল্লেখ থাকবে।
  • ২. নিয়োগকর্তার আবেদন — ইউরোপে ওয়ার্ক পারমিট/অনুমোদনের জন্য; আপনি পাসপোর্টের কপি, সিভি, সনদ এবং কখনো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেন।
  • ৩. পারমিট ইস্যু — আপনি কপি পান এবং তা যাচাই করেন (৭ নম্বর অংশ দেখুন)।
  • ৪. ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট — দেশভেদে ঢাকা বা নয়াদিল্লির দূতাবাস/ভিসা সেন্টারে; মূল কাগজ জমা ও ভিসা ফি পরিশোধ।
  • ৫. সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার — আপনার কাজ, দক্ষতা ও চুক্তি নিয়ে।
  • ৬. ভিসার সিদ্ধান্ত, এরপর মেডিকেল, বিএমইটি নিবন্ধন ও বহির্গমন ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড)।
  • ৭. ফ্লাইট ও পৌঁছানো, এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রেসিডেন্স পারমিট নিবন্ধন।

বেশিরভাগ যাত্রা হয় ঢাকা (DAC) থেকে উপসাগরীয় বা ইউরোপীয় ট্রানজিট হয়ে; সিলেট ও চট্টগ্রামের কর্মীরাও প্রায়ই সেখান থেকে সংযোগ ফ্লাইট পান। পাসপোর্টে ভিসা লাগার পরই টিকিট কাটুন। এই ধাপ সমন্বয়ে সাহায্য করতে পারে আমাদের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সেবা।

৫. ইউরোপের ওয়ার্ক ভিসার কাগজপত্রের চেকলিস্ট

  • বৈধ পাসপোর্ট (খালি পৃষ্ঠা ও পর্যাপ্ত মেয়াদসহ)
  • মূল ওয়ার্ক পারমিট/অনুমোদন (নুল্লা ওস্তা, IGI অনুমোদন ইত্যাদি) — কিছু সেন্টার সাম্প্রতিক হওয়ার শর্ত দেয়, যেমন VFS-এর ক্রোয়েশিয়া চেকলিস্টে ওয়ার্ক পারমিট লেটার ৯০ দিনের বেশি পুরোনো না হওয়ার কথা বলা আছে
  • স্বাক্ষরিত চাকরির চুক্তিপত্র বা জব অফার
  • শিক্ষাগত, ট্রেড ও অভিজ্ঞতার সনদ; চাইলে অনুবাদ
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • গন্তব্য দেশে থাকার ব্যবস্থার প্রমাণ (প্রায়ই নিয়োগকর্তা দেন)
  • প্রয়োজনে ভ্রমণ/স্বাস্থ্য বিমা
  • পূরণকৃত ভিসা ফরম, শেনজেন মাপের ছবি ও ভিসা ফি-র রশিদ

প্রতিটি দূতাবাস নিজস্ব চেকলিস্ট প্রকাশ করে; হুবহু অনুসরণ করুন, কারণ অনুপস্থিত বা পুরোনো কাগজপত্র ভিসা প্রত্যাখ্যানের একটি সাধারণ কারণ।

৬. ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিটের খরচের খাত ও বাস্তব সময়সীমা

বৈধ খরচের মধ্যে সাধারণত থাকে: দূতাবাসের ন্যাশনাল ভিসা ফি ও ভিসা সেন্টারের সার্ভিস চার্জ, কাগজপত্রের অনুবাদ ও সত্যায়ন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল টেস্ট, বিএমইটির নিবন্ধন ও ক্লিয়ারেন্স ফি, দূতাবাস নয়াদিল্লিতে হলে সেখানে যাওয়ার খরচ (এবং ভারতীয় ভিসা), এবং বিমান টিকিট। ইউরোপের অনেক দেশে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন নিয়োগকর্তা করেন এবং প্রায়ই তার খরচও তিনিই বহন করেন। দেশভেদে অঙ্ক আলাদা ও সময়ের সাথে বদলায়, তাই খাতওয়ারি লিখিত হিসাব চেয়ে নিন।

সময়ও লাগে অনেক। দেশ ও কাজের চাপ অনুযায়ী নিয়োগকর্তার পারমিট পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগতে পারে, এরপর দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ভিসার সিদ্ধান্তে আরও কয়েক সপ্তাহ। অফার থেকে যাত্রা পর্যন্ত মোট ৪–১২ মাস লাগা স্বাভাবিক; কেউ “১৫ দিনে” ইউরোপের ওয়ার্ক ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সন্দেহের চোখে দেখুন।

৭. ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট এজেন্সি ও চাকরির অফার কীভাবে যাচাই করবেন

  • নিয়োগকর্তা যাচাই: গন্তব্য দেশের অফিসিয়াল ব্যবসা নিবন্ধন তালিকায় কোম্পানিটি খুঁজুন এবং এজেন্টের দেওয়া তথ্যের বাইরে নিজে খুঁজে পাওয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।
  • পারমিট যাচাই: যেখানে অনলাইন চেক বা ইমেইলে নিশ্চিতকরণের সুযোগ আছে, সেখানে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পারমিটের নম্বর ও তথ্য নিশ্চিত করুন (যেমন রোমানিয়ার IGI, অথবা ইতালির নুল্লা ওস্তার জন্য প্রিফেকচার/ইমিগ্রেশন অফিস)।
  • বাংলাদেশের এজেন্সি যাচাই: বিএমইটির রিক্রুটিং লাইসেন্স (RL) নম্বর চেয়ে অফিসিয়াল তালিকায় মিলিয়ে দেখুন।
  • পেমেন্টের শর্ত যাচাই: যাচাইযোগ্য পারমিট হাতে আসার আগে কখনো বেশিরভাগ টাকা দেবেন না; সবসময় রশিদ নিন।
  • ভিসার ধরন যাচাই: কাজের পথে ন্যাশনাল D ভিসা লাগে, টুরিস্ট শেনজেন ভিসা নয়।

সতর্কসংকেত: অদক্ষ কাজে অস্বাভাবিক বেশি বেতন, দ্রুত টাকা দেওয়ার চাপ, নিয়োগকর্তার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অভিজ্ঞতার সনদের মতো কাগজ “ম্যানেজ” করে দেওয়ার প্রস্তাব। মূল বিষয়গুলো বুঝতে পড়ুন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি।

৮. ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিটে ডিযিনি কীভাবে সহায়তা করে

ডিযিনি সারা বাংলাদেশের কর্মীদের ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রসেসিংয়ে পরামর্শ দেয়: প্রতিটি দেশের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা, দূতাবাসের চেকলিস্ট অনুযায়ী কাগজপত্র পর্যালোচনা, ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রস্তুতি এবং ভিসা পাওয়ার পর ফ্লাইটের ব্যবস্থা। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে দূর থেকেই কাগজপত্র পাঠাতে পারেন, অথবা কাকরাইলে আমাদের ঢাকা প্রধান কার্যালয় বা শরীয়তপুর শাখায় আসতে পারেন।

আমরা পারমিট ইস্যু করতে বা দূতাবাসের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারি না — কোনো এজেন্সিই পারে না — এবং প্রত্যেক গ্রাহককে স্বাধীনভাবে নিয়োগকর্তা যাচাই করতে উৎসাহিত করি। কোনো টাকা দেওয়ার আগে স্পষ্ট ও সৎ মূল্যায়নের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য ইউরোপের কোন দেশ সহজ?

কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে সহজ নয়। রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও সার্বিয়া নিয়োগকর্তার স্পন্সর করা পারমিটে বাংলাদেশি কর্মী নিয়েছে, আর ইতালিতে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-সহ বার্ষিক কোটা ব্যবস্থা আছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবাই যাচাই কঠোর করেছে। সঠিক দেশ নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, নিয়োগকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও দূতাবাসের বর্তমান প্রক্রিয়ার ওপর, তাই সিদ্ধান্তের আগে অফার যাচাই করুন।

রোমানিয়া বা ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসার আবেদন বাংলাদেশিরা কোথায় করেন?

লেখার সময় পর্যন্ত ঢাকায় রোমানিয়ার পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস নেই এবং বাংলাদেশি আবেদনকারীরা মূলত নয়াদিল্লির রোমানিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার ক্ষেত্রে VFS Global-এর চেকলিস্টে ঢাকায় জমা দেওয়ার ভিসা সেন্টার উল্লেখ আছে, আর সিদ্ধান্ত দেয় নয়াদিল্লির দূতাবাস। ব্যবস্থা বদলায়, তাই প্রতিটি দেশের অফিসিয়াল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ভিসা সেন্টারের ওয়েবসাইটে নিশ্চিত হন।

ইতালির ডিক্রেতো ফ্লুসি কী?

ডিক্রেতো ফ্লুসি হলো ইইউর বাইরের কর্মী নেওয়ার জন্য ইতালির কোটা ব্যবস্থা। ২০২৬–২০২৮ সালের ডিক্রিতে তিন বছরে প্রায় ৪,৯৭,৫৫০ জনের প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে, যার একটি অংশ বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর জন্য সংরক্ষিত। ইতালির নিয়োগকর্তা নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে অনলাইনে নুল্লা ওস্তার আবেদন করেন; এটি ইস্যু হলে কর্মী ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করেন। কোটা দ্রুত পূরণ হয়।

ইউরোপ ভিসা প্রসেসিংয়ে কত সময় লাগে?

সাধারণত কয়েক মাস। দেশভেদে নিয়োগকর্তার ওয়ার্ক পারমিট পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগতে পারে, এরপর দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ভিসার সিদ্ধান্তে আরও সময় লাগে। অফার থেকে যাত্রা পর্যন্ত ৪ থেকে ১২ মাস স্বাভাবিক। কেউ দুই-এক সপ্তাহে ইউরোপের ওয়ার্ক ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সন্দেহ করুন, কারণ পারমিট ও ভিসা দুটোই সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে।

শেনজেন টুরিস্ট ভিসায় কি ইউরোপে কাজ করা যায়?

না। শেনজেন স্বল্পমেয়াদি ভিসা ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর বা পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য, এতে চাকরির অনুমতি নেই। এই ভিসায় কাজ করা অবৈধ এবং এর ফলে দেশে ফেরত পাঠানো ও শেনজেন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। কাজের জন্য যে দেশে চাকরি করবেন, সেই দেশের বৈধ ওয়ার্ক পারমিটের ভিত্তিতে ন্যাশনাল দীর্ঘমেয়াদি (D-টাইপ) ভিসা লাগে।

ট্যাগ:#ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা#ইউরোপ ভিসা প্রসেসিং#Europe Work Permit Visa Bangladesh#Decreto Flussi#Romania Croatia Poland Work Visa#ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপ
ফ্রি ফাইল যাচাই

আপনার ফাইল পাঠান

আমাদের কনসালট্যান্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে সঠিক আপডেট জানাবেন।

সরাসরি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

ফর্মটি পূরণ করুন, আমাদের অভিজ্ঞ টিম দ্রুততম সময়ে যোগাযোগ করবে।

সকল ব্লগে ফিরে যান

সম্পর্কিত অন্যান্য ব্লগ

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি? কাজ, পাওয়ার উপায় ও BMET গাইড ২০২৬
ওয়ার্ক পারমিট

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি? কাজ, পাওয়ার উপায় ও BMET গাইড ২০২৬

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি এবং এর কাজ কি? কীভাবে পাওয়া যায়, BMET ক্লিয়ারেন্স, কাগজপত্র, খরচের খাত ও ভুয়া চাকরির অফার চেনার উপায় — ২০২৬ সালের পূর্ণ গাইড।

১১ মিনিটে পড়ুন
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে LMIA ও আবেদন গাইড
ওয়ার্ক পারমিট

কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে LMIA ও আবেদন গাইড

বাংলাদেশ থেকে কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: LMIA কীভাবে কাজ করে, IRCC ফি, ঢাকায় বায়োমেট্রিক্স, কাগজপত্র এবং কেন কোনো এজেন্সি LMIA-র নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

১১ মিনিটে পড়ুন
রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে আবেদনের ধাপ
ওয়ার্ক পারমিট

রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে আবেদনের ধাপ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিটের ধাপসমূহ: নিয়োগকর্তার অনুমোদন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, এম্বাসি ভিসা, বিএমইটি ছাড়পত্র, বেতন এবং প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়।

১২ মিনিটে পড়ুন

আমাদের পার্টনার

যাদের সাথে আমরা একসাথে কাজ করি

দেশের বিশ্বস্ত ট্রাভেল, রিক্রুটিং ও এডুকেশন কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে আমরা আপনার সেবা নিশ্চিত করি।

কল করুনWhatsApp